সুনামগঞ্জ , বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬ , ৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
এক বছরে বিচারাধীন মামলা ২০ লাখে নামিয়ে আনা সম্ভব : আইনমন্ত্রী জামায়াতের এমপির ‘ব্যক্তিগত মুহূর্তের’ ভিডিও ভাইরাল, ফেসবুকে যে ব্যাখ্যা দিলেন চেলা নদীর পাড় কেটে বালু উত্তোলন ২৬ জনের বিরুদ্ধে পরিবেশ অধিদপ্তরের মামলা ৪৮ পদের মধ্যে ৩৬টিই শূন্য জামালগঞ্জে নদী ভাঙনের ঝুঁকিতে শতাধিক বসতভিটা ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়ে যুবকের আত্মহত্যা ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি সারাদেশে সম্প্রসারণের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর পাহাড়ি ঢলের তান্ডবে শতাধিক ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত, চরম দুর্ভোগে সীমান্তবাসী একদিনেই দুই শিশুর মৃত্যু, জেলায় মৃতের সংখ্যা ৪৭ মধ্যনগরের ১৬ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এমপি কামরুলের অর্থায়নে নৌকা বিতরণ পথে যেতে যেতে: পথচারী ৭ কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে সওজকে আদালতের নির্দেশ ‎আর্জেন্টিনাকে কাঁদিয়ে বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন স্পেন পাঁচ মিনিটের বক্তব্যে মুগ্ধ করেছিলেন হুমায়ূন আহমেদ বর্ষায় নজরুল : শিল্পকলা একাডেমিতে প্রাণবন্ত সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা মৃত্যুর শীর্ষে সুনামগঞ্জ, ৭ মাসে প্রাণ গেল ৪৫ শিশুর মধ্যনগরে শিশু ধর্ষণের শিকার, গ্রেফতার ১ শান্তিগঞ্জে আর্জেন্টিনা সমর্থকদের বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা ‎জামালগঞ্জে আর্জেন্টিনা সমর্থকদের বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা কারাগারে সাজাপ্রাপ্ত আসামির মৃত্যু

হাওর ও জলাভূমি উন্নয়ন অধিদপ্তর : কবে শুরু হবে কার্যক্রম?

  • আপলোড সময় : ১৫-০৮-২০২৪ ০২:৩৮:৫২ অপরাহ্ন
  • আপডেট সময় : ১৫-০৮-২০২৪ ০২:৩৮:৫২ অপরাহ্ন
হাওর ও জলাভূমি উন্নয়ন অধিদপ্তর : কবে শুরু হবে কার্যক্রম?
 
হাওর জেলা সুনামগঞ্জে ৮ বছর আগে হাওর ও জলাভূমি উন্নয়ন অধিদপ্তরের আঞ্চলিক কার্যালয় উদ্বোধন করা হলেও প্রতিষ্ঠানটির কোনো কার্যক্রম শুরু হয়নি এখনো। জেলাবাসীর দীর্ঘদিনের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে এ প্রতিষ্ঠানের আঞ্চলিক কার্যালয় স্থাপনের উদ্যোগ নেয়া হয়। তবে শুরু থেকেই এটি নিয়ে এক প্রকার অবহেলা রয়েছে বলে মনে করেন হাওরবাসীর বিভিন্ন দাবি নিয়ে আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিরা। তবে কর্তৃপক্ষ বলছেন, জনবল সংকটের কারণে আঞ্চলিক কার্যালয়ের কার্যক্রম শুরু করা যাচ্ছে না।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, জেলায় হাওর ও জলাভূমি উন্নয়ন অধিদপ্তরের আঞ্চলিক কার্যালয়ের ভবন নির্মাণের পর এটি পড়ে ছিল চার বছর। এরপর উদ্বোধন হলেও এখন আট বছর চলে গেছে, কিন্তু কোনো কার্যক্রম নেই। এ কারণে এ প্রতিষ্ঠান নিয়ে হাওরবাসীর যে প্রত্যাশা ছিল সেটি পূরণ হচ্ছে না।
সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সূত্রে জানা যায়, হাওর অধ্যুষিত জেলাটিতে বাংলাদেশ হাওর ও জলাভূমি উন্নয়ন অধিদপ্তরের আঞ্চলিক কার্যালয় প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেয়া হয় ২০১০ সালে। এরপর সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের তত্ত্বাবধানে পৌর শহরের ষোলঘর এলাকায় পাউবো’র জায়গায় একটি ভবন নির্মাণের কাজ শুরু হয়। তিন তলা এ ভবন নির্মাণে ব্যয় হয় ১ কোটি ৮৫ লাখ টাকা। ২০১২ সালের ডিসেম্বরে ভবন নির্মাণের কাজ শেষ হয়। পাউবো ভবন বুঝে নেয়ার জন্য হাওর ও জলাভূমি উন্নয়ন অধিদপ্তরকে চিঠি দেয়। কিন্তু ভবনটি বুঝে নেয় চার বছর পর। এরপর ২০১৬ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি এ আঞ্চলিক কার্যালয়ের উদ্বোধন করেন পানিস¤পদ মন্ত্রণালয়ের তৎকালীন মন্ত্রী আনিসুল ইসলাম মাহমুদ। এরপর আরো আট বছর পেরিয়ে গেলেও এখনো এটির দৃশ্যমান কোনো কার্যক্রম নেই।
সরেজমিনে ওই কার্যালয়ে দেখা যায়, সুরমা নদীর তীরে নির্মাণ করা তিন তলা ভবনের নিচ তলার অর্ধেক ও দোতলায় অফিস এবং তৃতীয় তলা রয়েছে গেস্ট হাউস। প্রতিষ্ঠানের কোনো কার্যক্রম না থাকায় দোতলার দুটি কক্ষ অফিস হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে পানিস¤পদ পরিকল্পনা সংস্থা (ওয়ারপো) সিলেটের বিভাগীয় কার্যালয় হিসেবে। আরেকটি কক্ষ ব্যবহার করছে পাউবো। একটি কক্ষে বসছেন হাওর ও জলাভূমি উন্নয়ন অধিদপ্তরের এ কার্যালয়ের দুজন কর্মী। তারা হলেন বদিউল আলম ও উমায়ের হোসেন। দুজনই অফিস সহায়ক। বদিউল এক বছর ও উমায়ের আছেন চার বছর ধরে। 
দুজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, অফিস দেখাশোনা ছাড়া তাদের তেমন কোনো কাজ নেই। পাউবো ও হাওর আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিরা বলছেন, সুনামগঞ্জে হাওরের প্রকৃতি, পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষা, মানুষের জীবনমানের উন্নয়নে এ প্রতিষ্ঠান ভূমিকা রাখতে পারে। এছাড়া হাওর এলাকায় পাউবোর নদী খনন, ফসল রক্ষা বাঁধ নির্মাণসহ নানা কাজ করে। হাওর এলাকায় বন্যা ব্যবস্থাপনা ও জীবনযাত্রার মানোন্নয়ন শীর্ষক একটি বড় প্রকল্পের কাজ এ বছর থেকে শুরু হচ্ছে। এছাড়া সরকার হাওর এলাকার উন্নয়ন, পর্যটনের বিকাশে নানাভাবে কাজ করছে। হাওর ও জলাভূমি উন্নয়ন অধিদপ্তরের আঞ্চলিক কার্যালয় থেকে এসব কাজে সহযোগিতা, তদারকিসহ নানাভাবে ভূমিকা রাখার সুযোগ রয়েছে। কিন্তু প্রতিষ্ঠানের কোনো কার্যক্রম না থাকায় সেটি সম্ভব হচ্ছে না। তবে এ প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে দুয়েক বছর ধরে ফসল রক্ষা বাঁধ নির্মাণের সময় প্রতিনিধিরা সরেজমিনে একবার এসে দেখে যান বলে জানা যায়। 
হাওর বাঁচাও আন্দোলন কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ স¤পাদক বিজন সেন রায় বলেন, সুনামগঞ্জকে আমরা হাওরের রাজধানী বলি। আমাদের দাবি ছিল- হাওর উন্নয়ন বোর্ডের প্রধান কার্যালয় এখানে হবে। সেটি না হয়ে আঞ্চলিক কার্যালয় প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে কিন্তু এটিরও কোনো সুফল আমরা পাচ্ছি না।
বাংলাদেশ হাওর ও জলাভূমি উন্নয়ন অধিদপ্তরের উপপরিচালক (কৃষি, পানি ও পরিবেশ) নুরজাহান খানম সুনামগঞ্জ আঞ্চলিক কার্যালয়ের উপপরিচালকের অতিরিক্ত দায়িত্বে রয়েছেন, তবে তিনি বসেন ঢাকার প্রধান কার্যালয়ে। তিনি জানান, মূলত লোকবলের সংকটের কারণেই এ কার্যালয়ের কার্যক্রম পুরোপুরি শুরু করা যাচ্ছে না। কেন্দ্রীয়ভাবে লোকবল নিয়োগ প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। আশা করি খুব দ্রুত সময়ের মধ্যে এই কার্যালয়ের কার্যক্রম শুরু হবে।

নিউজটি আপডেট করেছেন : SunamKantha

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ